Ask me anything
Ithy Logo
Sign in to save

হামাসের অপ্রত্যাশিত পুনরুত্থান: ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিস্তৃত বিশ্লেষণ

গাজা যুদ্ধের মধ্যেও হামাসের সামরিক সক্ষমতা পুনরায় বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ইসরায়েলকে নতুন সংকটের মুখে ফেলেছে

hamas-resurgence-amid-israels-ongoing-offensive-7q4aj67e

প্রধান পয়েন্টসমূহ

  • গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও হামাস পুনর্গঠিত হচ্ছে, ইসরায়েলি তথ্য অনুযায়ী তাদের সৈন্যসংখ্যা ১২,০০০ থেকে ২৩,০০০-এ পৌঁছেছে
  • ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত হামাস দফায় দফায় ইসরায়েলি শহরগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে
  • ইরান, হুথি জঙ্গিগোষ্ঠীসহ অন্যান্য শক্তিগুলোর সমর্থন হামাসের সামরিক ক্ষমতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে

হামাসের পুনরুত্থান: ধ্বংসস্তূপের মাঝে নতুন করে জেগে ওঠা

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের ধারাবাহিক আক্রমণের পরেও হামাস পুনরায় শক্তি সংগ্রহ করছে। জেরুজালেম পোস্ট অনুসারে, হামাসের সৈন্যসংখ্যা ১২,০০০ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২৩,০০০-এ পৌঁছেছে, যা তাদের ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে উত্তর গাজায় যেখানে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আগে তাদের উপস্থিতি দাবি করেছিল, সেখানে হামাস নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, হামাসের নেতা ইব্রাহিম মাধুন ঘোষণা করেছেন যে, "হামাস গাজার প্রত্যেকটি বিষয়ে উপস্থিত থাকবে" - যা তাদের দৃঢ় প্রতিজ্ঞার প্রমাণ দেয়। ধ্বংসপ্রাপ্ত শহর এবং অবকাঠামোর মধ্যেও, হামাস মূলত সুরঙ্গ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তাদের অবস্থান বজায় রেখেছে এবং সেখান থেকেই তাদের সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

হামাসের সাম্প্রতিক পুনর্গঠনের কৌশল

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করছে যে, হামাস ব্যাপক ক্ষতির পরও নিম্নলিখিত কৌশলগুলো অবলম্বন করে নিজেদের পুনর্গঠিত করছে:

  • ভূগর্ভস্থ সুরঙ্গ ব্যবস্থা ব্যবহার করে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ বজায় রাখা
  • স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে ব্যবহার করে নতুন সদস্য নিয়োগ
  • ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের পর পুনরায় বিভিন্ন এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা
  • ইরান, হেজবুল্লাহ এবং হুথি গোষ্ঠীর মতো প্রতিবেশী মিত্রদের কাছ থেকে কারিগরি ও সামরিক সহায়তা গ্রহণ

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গাজা যুদ্ধের এই পর্যায়ে হামাস "অপারেশনাল অ্যাম্বিগুইটি" কৌশল অবলম্বন করছে, যেখানে তারা অপ্রত্যাশিত সময়ে এবং স্থানে আক্রমণ চালানোর মাধ্যমে ইসরায়েলকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।


হামাসের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ধারাবাহিকতা (২০২৩-২০২৫)

হামাস ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি অঞ্চলগুলোতে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই হামলাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:

অক্টোবর ৭, ২০২৩: গাজা যুদ্ধের সূচনা

হামাস ৫,০০০-এরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট দিয়ে ইসরায়েলে একযোগে আক্রমণ চালায়, যা বর্তমান গাজা যুদ্ধের সূচনা করে। এই হামলার সময় হামাস সশস্ত্র সদস্যরা ইসরায়েলের সীমান্ত এলাকায় প্রবেশ করে হাজার হাজার সাধারণ নাগরিক এবং সেনা সদস্যদের হত্যা করে এবং অনেককে বন্দি করে নিয়ে যায়।

এপ্রিল ২০২৩: বহুমুখী আক্রমণ

হামাস লেবানন এবং সিরিয়া থেকে, এমনকি ইসরায়েল অধিকৃত গোলান হাইটস থেকেও রকেট হামলা চালিয়েছিল, যা হামাসের আঞ্চলিক মিত্রদের সাথে সমন্বয়ের প্রমাণ দেয়।

মে ২০২৪: জেরুজালেম লক্ষ্য করে আক্রমণ

হামাস গাজা থেকে জেরুজালেম এবং দক্ষিণ ইসরায়েলের কমিউনিটিগুলোতে রকেট হামলা চালায়, যা এলাকায় উত্তেজনাকে নতুন করে বাড়িয়ে তোলে।

মে ২৬, ২০২৪: তেল আবিবে হামলা

হামাস রাফাহ এলাকা থেকে আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ইসরায়েলের বাণিজ্যিক কেন্দ্র তেল আবিবকে লক্ষ্য করে, যার ফলে মাসের পর মাস শহরে প্রথমবারের মতো সতর্কতা সংকেত বাজে। ইসরায়েলি আয়রন ডোম ডিফেন্স সিস্টেম এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর কিছু প্রতিরোধ করে।

অক্টোবর ২০২৪: ইরানের সাথে সমন্বয়

হামাস ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে সমর্থন জানায়, যেটি হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়েহকে তেহরানে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে চালানো হয়েছিল। এটি হামাস এবং ইরানের মধ্যে আঞ্চলিক সমন্বয়ের প্রমাণ দেয়।

ডিসেম্বর ২০২৪: হুথি-হামাস সমন্বিত আক্রমণ

হুথি গোষ্ঠী ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একাধিক আক্রমণ চালায়, যার মধ্যে একটি তেল আবিবের কাছে একটি স্কুলে আঘাত করে, যেখানে কমপক্ষে তিনজন আহত হয়। এটি হামাস এবং অন্যান্য আঞ্চলিক গোষ্ঠীর মধ্যে বর্ধিত সমন্বয়ের চিত্র তুলে ধরে।

মার্চ ২০২৫: নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শুরু

উত্তর গাজা থেকে হামাস ইসরায়েলের স্দেরোট শহরের দিকে রকেট হামলা চালায়, যার ফলে ইসরায়েলকে উত্তর গাজার কিছু অংশে অবস্থান পরিবর্তন করতে হয়।

ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রভাব

দীর্ঘমেয়াদী এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলাগুলো ইসরায়েলি জনগোষ্ঠীর উপর গভীর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে দক্ষিণের শহরগুলোতে সাধারণ জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে, এবং নাগরিকদের অনেক সময় বাঙ্কারে আশ্রয় নিতে হয়। আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করলেও, কিছু ক্ষেত্রে এগুলো ভেদ করে যানবাহন এবং বাসস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


ইসরায়েল-হামাস সংঘর্ষের বিভিন্ন দিক

ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে চলমান সংঘর্ষ কেবল দুই পক্ষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি জটিল আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপ নিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে, ইসরায়েল তার সামরিক ক্ষমতা ব্যবহার করে গাজাকে সম্পূর্ণরূপে হামাসমুক্ত করার চেষ্টা করছে, যেখানে হামাস সংগঠন নিজেকে পুনর্গঠন করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখছে।

পক্ষ কৌশল মিত্র শক্তি লক্ষ্য
হামাস ভূগর্ভস্থ সুরঙ্গ থেকে গেরিলা হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ ইরান, হেজবুল্লাহ, হুথি গোষ্ঠী ইসরায়েলি অবরোধ শেষ, গাজায় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা
ইসরায়েল বায়ু আক্রমণ, ভূমি অভিযান, লক্ষ্যবস্তু হত্যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, পশ্চিমা দেশসমূহ হামাসকে গাজা থেকে উৎখাত, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
ইরান অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি সরবরাহ, সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া আঞ্চলিক শক্তি বৃদ্ধি, ইসরায়েলের প্রভাব হ্রাস
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মধ্যস্থতা, কূটনৈতিক চাপ, মানবিক সহায়তা জাতিসংঘ, ইইউ যুদ্ধবিরতি, মানবিক সংকট সমাধান

যুদ্ধের মানবিক মূল্য

গাজা এবং ইসরায়েলে চলমান সংঘর্ষের ফলে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। রাফাহ এলাকাসহ গাজার বিভিন্ন অংশে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চলেছে, যেখানে স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ অনেক নাগরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। সাম্প্রতিক ইসরায়েলি বিমান হামলায় গাজায় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে, যা মানবিক সংকটকে আরও গভীর করেছে।

এদিকে ইসরায়েলি নাগরিকরাও হামাসের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হচ্ছেন। উত্তর এবং দক্ষিণ ইসরায়েলের বেশ কিছু অঞ্চলে সাধারণ জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে, এবং অনেক লোক এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। এই পরিস্থিতিতে, উভয় পক্ষের সাধারণ নাগরিকরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই সংঘর্ষ সমাধানে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মিসর এবং কাতারের মতো দেশগুলো মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছে, কিন্তু সফলতা সীমিত। জাতিসংঘ গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর চেষ্টা করছে, তবে এর জন্য যথেষ্ট সমর্থন পাচ্ছে না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও, সেটি এখনও অর্জিত হয়নি।


হামাস এবং ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতার তুলনামূলক বিশ্লেষণ

হামাস এবং ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক শক্তি ও সক্ষমতার দিক থেকে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। নিম্নে একটি রাডার চার্টের মাধ্যমে উভয় পক্ষের বিভিন্ন সামরিক বিষয়ে তুলনামূলক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হলো:

চার্ট থেকে দেখা যাচ্ছে যে, ইসরায়েল প্রায় সব সামরিক দিক থেকেই হামাসের তুলনায় অনেক শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তবে হামাসের প্রধান শক্তি হলো গেরিলা যুদ্ধের কৌশল, যেখানে তারা আকস্মিক আক্রমণ, ভূগর্ভস্থ সুরঙ্গ ব্যবহার, এবং আত্মগোপন কৌশলে ইসরায়েলকে চ্যালেঞ্জ করতে সক্ষম। আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন পেলে হামাসের সক্ষমতা আরও বাড়ে, বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ক্ষেত্রে।


হামাসের পুনরুত্থানের কারণ ও প্রতিক্রিয়া

হামাসের পুনরুত্থানের পিছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। একটি মাইন্ডম্যাপের মাধ্যমে এই কারণসমূহ এবং ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হলো:

mindmap root["হামাসের পুনরুত্থান ও ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া"] ::icon(fa fa-bomb) ["কারণসমূহ"] ["ভূগর্ভস্থ সুরঙ্গ ব্যবস্থার সুবিধা"] ["আঞ্চলিক মিত্রদের সহায়তা"] ["ইরানের অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তা"] ["হেজবুল্লাহর প্রশিক্ষণ"] ["হুথি গোষ্ঠীর ক্ষেপণাস্ত্র সহায়তা"] ["আন্তর্জাতিক চাপে যুদ্ধবিরতির সুযোগ"] ["এলাকায় জনসমর্থন"] ["ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া"] ["বিমান হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি"] ["নতুন ভূমি অভিযান পরিকল্পনা"] ["৬০,০০০ সেনা মোতায়েন"] ["উত্তর গাজায় পুনরায় প্রবেশ"] ["ভূগর্ভস্থ সুরঙ্গ ধ্বংস অভিযান"] ["হামাস নেতৃত্বের লক্ষ্যবস্তু হত্যা"] ["আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া"] ["যুদ্ধবিরতির আহ্বান"] ["মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা"] ["মিসরের মধ্যস্থতা"] ["কাতারের মধ্যস্থতা"] ["মানবিক সহায়তা"] ["দ্বন্দ্ব নিরসনের চাপ"]

এই মাইন্ডম্যাপ থেকে বোঝা যায় যে, হামাসের পুনরুত্থানের পিছনে তাদের ভূগর্ভস্থ সুরঙ্গ নেটওয়ার্ক, আঞ্চলিক মিত্রদের সহায়তা, এবং আন্তর্জাতিক চাপে যুদ্ধবিরতির সময়কে কাজে লাগানো প্রভৃতি কারণ রয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েল এই পরিস্থিতিতে বিমান হামলা বাড়িয়েছে, নতুন ভূমি অভিযানের পরিকল্পনা করছে, এবং হামাস নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ধরে আক্রমণ চালাচ্ছে।


গাজা সংকটের বর্তমান চিত্র

উপরের ভিডিওটি দেখায় যে, যুদ্ধ পর্যবেক্ষকরা হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন যে, উত্তর গাজায় আল-কাসাম ব্রিগেড পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যদিও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছিল যে তারা এই এলাকাকে হামাসমুক্ত করেছে। এই ভিডিওতে দেখানো হয়েছে যে, কীভাবে হামাস পুনরায় সংগঠিত হচ্ছে এবং উত্তর গাজায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে।

ভিডিওটি হামাসের পুনরুত্থানের বাস্তব প্রমাণ দেয়, এবং দেখায় যে ইসরায়েলের ধারাবাহিক সামরিক অভিযান সত্ত্বেও হামাস তার সামরিক ক্ষমতা পুনর্গঠন করতে সফল হচ্ছে। এটি আরও প্রমাণ করে যে, গাজায় সামরিক সমাধানের পরিবর্তে একটি রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করা প্রয়োজন।


হামাস ও ইসরায়েলের যুদ্ধের মানবিক মূল্য

গাজায় ধ্বংসযজ্ঞের ছবি

গাজার ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকার দৃশ্য (সূত্র: রয়টার্স)

ইসরায়েলের আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামাসের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করছে (সূত্র: রয়টার্স)

উপরের চিত্রগুলো থেকে বোঝা যায় যে, গাজায় ইসরায়েলি আক্রমণের ফলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। অনেক বাড়িঘর, হাসপাতাল, স্কুল এবং নাগরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলও হামাসের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হচ্ছে, যদিও আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করতে সক্ষম হচ্ছে।

এই চলমান সংঘর্ষে দুই পক্ষের সাধারণ নাগরিকরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গাজায় মানবিক সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর অনুমান অনুযায়ী লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।


প্রশ্নোত্তর

হামাস কিভাবে এত ধ্বংসের পরেও আবার শক্তি সঞ্চয় করতে পারছে?
হামাস মূলত তাদের জটিল ভূগর্ভস্থ সুরঙ্গ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইসরায়েলি আক্রমণ থেকে রক্ষা পেয়েছে। গাজার এই সুরঙ্গ ব্যবস্থা শত শত কিলোমিটার বিস্তৃত, যেখানে অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ এবং সেনাদের আশ্রয় দেওয়া সম্ভব। এছাড়া ইরান, হেজবুল্লাহ, হুথি গোষ্ঠী ইত্যাদি আঞ্চলিক মিত্রদের সাহায্য, স্থানীয় জনসমর্থন, এবং আন্তর্জাতিক চাপে বিভিন্ন সময়ে যুদ্ধবিরতির সুযোগে তারা নিজেদের পুনর্গঠন করেছে। তাছাড়া, হামাসের ডিসেন্ট্রালাইজড নেটওয়ার্ক কাঠামো এমনভাবে তৈরি করা যে, নেতৃত্বের একটি অংশ ধ্বংস হলেও অন্য অংশ কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে।
ইসরায়েলের আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করে?
আয়রন ডোম হলো ইসরায়েলের একটি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা ২০১১ সাল থেকে কার্যকর রয়েছে। এই সিস্টেম রাডার ব্যবহার করে শত্রু ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে, তার গতিপথ নির্ধারণ করে, এবং যদি এটি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পড়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে একটি প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র প্রেরণ করে যা আক্রমণকারী ক্ষেপণাস্ত্রকে বায়ুতে ধ্বংস করে দেয়। আয়রন ডোম প্রায় ৯০% সফলতার হার অর্জন করেছে, তবে অনেক ক্ষেপণাস্ত্র একসাথে আসলে বা অতি নিম্ন উচ্চতায় আসলে তা প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এই সংঘর্ষের সমাধানের সম্ভাব্য পথ কী?
এই সংঘর্ষের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য কেবল সামরিক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়, বরং একটি সমন্বিত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রয়োজন। প্রথমত, একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন যা উভয় পক্ষকে মেনে চলতে হবে। দ্বিতীয়ত, ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি দ্বন্দ্বের 'দুই রাষ্ট্র সমাধান' নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করতে হবে। তৃতীয়ত, গাজার পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন, যেখানে কেবল অবকাঠামো নয়, বরং অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, এবং মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থত, এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আরব দেশগুলো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, এবং জাতিসংঘের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
কীভাবে হামাস এবং ইরানের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে?
ইরান এবং হামাসের মধ্যে সম্পর্ক ১৯৯০-এর দশক থেকে শুরু হয়েছিল, তবে ২০০৬ সালে হামাস গাজায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই সম্পর্ক আরও গাঢ় হয়। ইরান হামাসকে আর্থিক সহায়তা, সামরিক প্রশিক্ষণ, এবং অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করে আসছে। ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হামাসকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি, বিস্ফোরক তৈরির কৌশল, এবং সামরিক কৌশল শেখায়। ইরান ও হামাসের মধ্যে এই মিত্রতা মূলত ইসরায়েলের প্রতি উভয়ের শত্রুতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বিস্তারের কৌশলগত লক্ষ্য থেকে উদ্ভূত। সাম্প্রতিক সময়ে, ইরান হামাসকে আরও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি সরবরাহ করেছে যা তাদের ইসরায়েলের গভীরে আক্রমণ চালাতে সাহায্য করেছে।
সাধারণ ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য এই যুদ্ধের প্রভাব কী?
গাজায় সাধারণ ফিলিস্তিনি জনগণ এই যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলমান আক্রমণের ফলে হাজার হাজার নাগরিক নিহত হয়েছে, লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। গাজায় বেসামরিক অবকাঠামো যেমন হাসপাতাল, স্কুল, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পানির সরবরাহ ব্যবস্থা ইত্যাদি ধ্বংস হয়েছে। খাদ্য, পানি, ওষুধ, জ্বালানি এবং অন্যান্য মৌলিক প্রয়োজনীয় সামগ্রীর তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় সমস্ত জনসংখ্যা খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। শিশুরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, মানসিক আঘাত পাচ্ছে, এবং অনেকেই পিতামাতা হারিয়ে অনাথ হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি গাজায় একটি প্রজন্মকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, যার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে।

উৎসসমূহ


আরও অন্বেষণ করুন


Last updated April 7, 2025

AI-assisted research. Sources, methodology and corrections · Source-checked guides and tools · Explore published answers

Ask Ithy AI